শিক্ষক সমাজই জাতি গঠনের মূল চালিকাশক্তি –  ফখরুল ইসলাম

সিলেট প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগরীর আমীর জননেতা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, “একটি জাতিকে গড়ে তোলার পেছনে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। শিক্ষকরা যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন তবে একটি প্রজন্মকে নৈতিক, আদর্শবান ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে তৈরি করা সম্ভব।”

তিনি আরো বলেন, “আজকের এই সমাজে নানা ধরনের অস্থিরতা, অনৈতিকতা ও মূল্যবোধহীনতার অন্যতম কারণ হচ্ছে শিক্ষক সমাজকে যথাযথ সম্মান না দেওয়া। শিক্ষকরা যদি কেবল পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনের দিকনির্দেশনা দেন, তবে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আমাদের প্রয়োজন আদর্শ শিক্ষক—যারা শুধুমাত্র জ্ঞান নয়, বরং মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার দীক্ষা দিতে পারবেন। সুস্থ সমাজ বিনির্মাণ ও আগামী প্রজন্মকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দকে কাংখিত দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

তিনি আজ সিলেটের অন্যতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষকবৃন্দের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ মাওলানা মোঃ লুৎফুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামেয়ার সম্মানিত উপাধ্যক্ষ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদ মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার বলেন, “আজকের ছাত্ররাই আগামী দিনের রাষ্ট্র ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদেরকে সঠিক পথে গড়ে তোলাই শিক্ষকদের প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের মনে নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, সত্যনিষ্ঠা ও মানবিকতা সৃষ্টি করতে না পারলে তারা কখনো জাতির প্রকৃত সম্পদ হয়ে উঠতে পারবে না। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান দেবেন না, বরং তাদের চরিত্র গঠনে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করবেন। জাতি তখনই সমৃদ্ধ হবে যখন শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে সত্য, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করবেন।”

তিনি আরো বলেন, “বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি, তথ্যপ্রবাহ ও বিশ্বায়নের যে ধারা চলছে, এর মধ্যে আমাদের তরুণ প্রজন্ম নানা প্রলোভন ও বিপথগামিতার শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের দায়িত্ব অনেক বেশি। শিক্ষক সমাজকেই হতে হবে আগামী দিনের নৈতিক শক্তির রক্ষক।”

সভাপতির বক্তব্যে জামেয়ার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ লুৎফুর রহমান বলেন, “শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি আমানত। সমাজ, জাতি ও রাষ্ট্র আমাদের কাঁধে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। শিক্ষকরা যদি শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা এবং আন্তরিকতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করেন, তবে শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলাবদ্ধ, জ্ঞানসমৃদ্ধ ও চরিত্রবান মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠবে।”

তিনি আরো বলেন, “আমাদের উচিত নিজেদের মধ্যে ঐক্য, সততা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা। শিক্ষার্থীরা শুধু বইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, তাদেরকে বাস্তব জীবনে দায়িত্বশীল ও কর্মঠ নাগরিক হতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের ব্যক্তিগত জীবনকেও হতে হবে অনুসরণযোগ্য।”

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক মাওলানা কমর উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক সালাহ উদ্দিন, মুহাদ্দিস মাওলানা হাবীব উল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক ফারুক আহমদ, মুফতি আলী হায়দার, এবং মাওলানা আলাউদ্দিন প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার সকল শিক্ষকের সরব উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যমণ্ডিত করে তোলে। তাঁদের আন্তরিক আগ্রহ, গভীর মনোযোগ ও প্রাণবন্ত আলোচনায় সভাস্থল এক অনন্য আবহ সৃষ্টি হয়। যেন একসাথে মিলিত হয়েছিল আগামী দিনের আলোকবর্তিকা প্রজন্ম গড়ার শপথবদ্ধ একদল শিক্ষকসমাজ।

সভা শেষে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সকল শিক্ষক ও অতিথির মাঝে জামেয়ার পক্ষ থেকে স্নিগ্ধ আতিথেয়তার নিদর্শন হিসেবে নাশতা পরিবেশন করা হয়। অতিথিপরায়ণতার উষ্ণ আবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের অঙ্গীকারে।

এই মতবিনিময় সভা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি হয়ে উঠেছিল শিক্ষকদের হৃদয়ে দায়িত্বশীলতার নতুন উদ্দীপনা সঞ্চারের এক স্মরণীয় মুহূর্ত। জাতি গঠনের মহান দায়িত্বে আত্মনিয়োগের শপথ যেন প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর অন্তরে নতুন করে প্রতিধ্বনিত হলো।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *