তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ভাবে গণ-মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জামালগঞ্জ উপজেলা শাখা।
গতকাল বিকেলে জামালগঞ্জ উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম (হেলিপেড মাঠ) থেকে একটি বর্ণাঢ্য মিছিলটি বের হয়ে উপজেলার প্রধান সড়ক ও বাজার প্রদক্ষিণ করে মিছিলে মিছিলে রিভার ভিউ পার্কে এসে পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকার (জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) দলীয় প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা তোফায়েল আহমেদ খান।
জামায়াতে ইসলামীর জামালগঞ্জ উপজেলা শাখার নায়বে আমীর মো: ফখরুল চৌধুরী’র সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের অফিস ও প্রচার সম্পাদক মো: নূরুল ইসলাম, জামায়াতের জামালগঞ্জ উপজেলা আমীর মো: হাবিবুর রহমান, জামালগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো.ওবায়দুল্লাহ প্রমুখ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ মাওলানা তোফায়েল আহমেদ খান বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ নতুন বাংলাদেশ আগামীতে নতুন দিগন্তের দ্বার উম্মেচিত হবে। স্বৈরচারী-ফ্যাসিবাদী জুলুমবাজ আওয়ামী লীগ কে চিরতরে এ দেশ থেকে বিদায় করতে হবে। এ দেশ, মাটি ও মানুষ স্বৈরচারী হাসিনার ও তার দোসরদের বিচার দেখতে চায়। হাসিনার নির্দেশে এ দেশের অসংখ্য নীরহ মানুষকে খুন-গুম, জুলুম-নির্যাতন, ধর্ষণ- লুটপাট, দখলের রাজ্য কায়েম করেছিল। দেশের সকল বাহিনী কে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এক এক করে সব ধ্বংস করে দিয়েছিল ডাইনি। হাজারো মানুষ হত্যা করার পরেও হাসিনা বলেছিল যত মানুষই মরোক আমাকে টিকে থাকতে হবে। হাসিনা অত্যন্ত সুকৌশলে পিলখানায় আমাদের দেশ প্রেমিক অনেক সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভারতীয় আধিপত্যবাদের গুষ্টিরা সেবা দাসেরা একটা সিগনাল দিতে চেয়েছিল যে তোমরা আমাদের উপর কথা বলার চেষ্টা করোনা। তাদের মিথ্যা জুডিশিয়াল ক্যু তে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মিথ্যা মামলায় যে দিন রায় দিয়ে ছিল সে দিন এই ৫ আগষ্টের মতো সারা দেশ প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল। সেদিন প্রায় শতাধিক নিরিহ মানুষ হত্যা করে মায়ের বুক খালি করেছে এই স্বৈরাচারীনী হাসিনা সরকার। এই জুলুমবাজ লম্পটেরা শাপলা চত্বরে নিরীহ আলেম-ওলামা ও ছাত্র ভাইদের উপর হামলে পড়ে হাজারো আলেম ওলামা কে হত্যা করেছিল।
এই অত্যাচারীদের দুর্নীতি, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে চাইলেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দেশের বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার, জামাত শিবির ট্যাগ লাগিয়ে দিত। ওরা যখন বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছিল বিশ্বজিৎ বলেছিল আমি তো ভাই হিন্দু মানুষ তারপরও তারা থেমে থাকে নি তাকে তারা হত্যা করেছে। জুডিশিয়াল কিলিং এর মাধ্যমে অন্যায় ভাবে অনেক নেতৃবৃন্দ কে ফাঁসী দিয়ে হত্যা করেছে। হাসিনা’র অত্যাচারে দেশের কোটি-কোটি নিরিহ মানুষ ও শিশুরা মহান আল্লাহ র কাছে অশ্রুজলে বুক ভাসিয়েছেন। জুলুম আর কলঙ্কের বোঁঝা মাথায় নিয়ে দেশ ত্যাগ করে পালিয়ে গেলেও অবশ্যই তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। স্বৈরচারী হাসিনার বিচার বাংলার মাটিতেই দেখতে চায় মানুষ। এটা জনগণের প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশা অবশ্যই পূরণ হবে ঈনশাআল্লাহ। এসময় দলী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
