সিলেটের পাঠানটুলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় আগামী ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সহপাঠ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও এই বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় দক্ষ ও ইসলামী ভাবধারায় গড়ে ওঠা প্রকৌশলী, ডাক্তার ও বিজ্ঞানী তৈরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়। এজন্য শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞান মেলায় তিনটি প্রধান ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো প্রজেক্ট উপস্থাপন, বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ এবং আকর্ষণীয় গেম প্রতিযোগিতা।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান মেলায় শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি গ্রুপ নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘ক’ গ্রুপে থাকবে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, ‘খ’ গ্রুপে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং ‘গ’ গ্রুপে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। প্রতিটি প্রজেক্টে সর্বোচ্চ তিনজন সদস্য থাকতে পারবে।
প্রজেক্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের জন্য টি-শার্ট, ছাত্রীদের জন্য ক্যাপ এবং সকলের জন্য নাস্তার ব্যবস্থা থাকবে।
প্রজেক্ট বাছাইয়ের জন্য আগামী ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রজেক্টের নাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা শিক্ষিকার কাছে জমা দিতে হবে।
প্রজেক্ট বাছাই কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য জনাব ফারুক মিয়া ও জনাব মতিউর রহমান, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য জনাব আকিব হোসাইন ও জনাব আলিম উদ্দিন এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য জনাব এমদাদুল ইসলাম ও জনাব মকবুল হোসাইন। এছাড়া ছাত্রীদের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রজেক্ট বাছাইয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাবৃন্দ দায়িত্ব পালন করবেন।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. লুৎফুর রহমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের এই বিজ্ঞান মেলাকে সফল করতে সক্রিয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে বিজ্ঞান মেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব ইবনে কাবেদ জানান, এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
বিজ্ঞান মেলাকে ঘিরে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
