মুক্তবাংলা ডেস্ক রিপোর্টঃ কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ ৮ জানুয়ারি ২০২৫, দুপুরের দিকে ৮ নম্বর ক্যাম্পে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুতই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় প্রশাসন এবং দমকল বাহিনীর প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগুনে কমপক্ষে ১২০টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে বহু রোহিঙ্গা পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তবে এখনো হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। ক্যাম্পের আশপাশে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুন এত দ্রুত ছড়ায় যে অনেকেই তড়িঘড়ি করে ঘর ছাড়তে বাধ্য হন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় রোহিঙ্গা বাসিন্দারাও আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। প্রায় তিন ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ক্যাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার এবং খড়-কাঠের ঘরগুলো আগুন ছড়ানোর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
এমনিতেই অস্থায়ী ঘরবাড়িতে বসবাসরত রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার। বারবার অগ্নিকাণ্ডের ফলে তাদের জীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ শুরু করেছে।
গত কয়েক বছরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। ২০২৪ সালেই অন্তত ৫টি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা এ ব্যাপারে ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার আবাসস্থল এই ক্যাম্পগুলোতে ক্রমাগত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে। জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
