মুক্তবাংলা ডেস্ক রিপোর্টঃ মিয়ানমারে চলমান মানবিক সংকট ও মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি আহ্বানের প্রতি গভীর সংহতি জানিয়েছে রোহিঙ্গা সেন্টার অব ইউনাইটেড কিংডম (আরসিইউকে)। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, পূর্ব তিমুর এবং যুক্তরাজ্য সরকার কর্তৃক প্রকাশিত যৌথ বিবৃতির প্রেক্ষিতে এই সংহতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
আরসিইউকের বিবৃতিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বর্বরতার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনকে “মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যার মুখোমুখি হয়েছেন, যা আজও অব্যাহত রয়েছে।
আরসিইউকের দাবিসমূহ:
১. রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা:
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, স্বাধীন চলাচল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
২. মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ:
সহিংসতা বন্ধ করে, খাদ্য নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার মতো জরুরি সাহায্য সরবরাহে বাধাহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৩. আরাকান আর্মির কর্মকাণ্ডের নিন্দা:
আরাকান আর্মির (এএ) দ্বারা রোহিঙ্গা যুবকদের জোরপূর্বক নিয়োগ, বাড়িঘর ধ্বংস এবং পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করার মতো কর্মকাণ্ডেরও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
৪. আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা:
মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি উভয়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়বদ্ধতার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরসিইউকের বিবৃতিতে বলা হয়, “রোহিঙ্গারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকান রাজ্যে বসবাস করে আসছে। আমরা আমাদের প্রাচীন ভূমিতে নিরাপদে ও সম্মানের সাথে বসবাসের অধিকার চাই।”
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান:
আরসিইউকের মতে, শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা ও দৃঢ় পদক্ষেপই রোহিঙ্গাদের সংকট সমাধানে সহায়ক হতে পারে। সংস্থাটি জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
যোগাযোগ:
রোহিঙ্গা সেন্টার অব ইউনাইটেড কিংডম (আরসিইউকে)
ইউনিট ১, ২৪ সামারভিল রোড, ব্র্যাডফোর্ড, বিডি৭ ১পিএক্স
ইমেইল: info@rcuk.org.uk
ফোন: +৪৪ ৭৯৪৪ ৪৭৮৯৬৬
সূত্র:
আরসিইউকের প্রেস রিলিজ (৮ জানুয়ারি ২০২৫)
