জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের বাংলাদেশ সফর অত্যন্ত কার্যকর ও ব্যস্ত সময়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ মার্চ ২০২৫) সকালে তিনি ঢাকায় এসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান সংস্কার ও পরিবর্তন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয় এবং জাতিসংঘ মহাসচিব এ প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
বৈঠকের পরপরই জাতিসংঘ মহাসচিব কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। তার সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। কক্সবাজারে পৌঁছে তিনি উখিয়ার ক্যাম্প-১৮-তে অবস্থিত রোহিঙ্গা সাংস্কৃতিক স্মৃতি কেন্দ্র (আরসিএমসি) এবং লার্নিং সেন্টার পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে গুতেরেস বলেন, “আমি এখানে দুটি স্পষ্ট বার্তা পাচ্ছি। প্রথমত, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে চায়। দ্বিতীয়ত, ক্যাম্পে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই মিয়ানমারে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা সম্মানের সঙ্গে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “দুঃখজনকভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে গেছে, যার ফলে রোহিঙ্গাদের খাদ্য রেশনও কমাতে হয়েছে। আমি চেষ্টা করবো যাতে এই সহায়তা পুনরায় বৃদ্ধি পায়।”
জাতিসংঘ মহাসচিব বিকেলে মাল্টিপারপাস সেন্টারে যান, যেখানে তিনি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ঘুরে দেখেন। পরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন। এ সময় তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের সীমিত সম্পদ ভাগ করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।”
এই সফর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পাশাপাশি বাংলাদেশের চলমান সংস্কার ও উন্নয়নের প্রতি জাতিসংঘের সমর্থন জোরালো করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
