নবজাতকের সুগার লেভেল কমে যাওয়ার কারণ ও করণীয়

নবজাতকের রক্তে সুগার লেভেল কমে যাওয়া বা নিওনেটাল হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Neonatal Hypoglycemia) একটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর সমস্যা। সময়মতো এটি শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। এই সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এর কারণ, লক্ষণ এবং করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা জরুরি।

নবজাতকের সুগার লেভেল কমে যাওয়ার কারণ:

১. মাতৃগর্ভে সমস্যাজনিত কারণ:

গর্ভকালীন মায়ের ডায়াবেটিস থাকলে নবজাতকের রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়, ফলে জন্মের পর শিশুর সুগার লেভেল দ্রুত কমে যেতে পারে।

জন্মের সময় অক্সিজেন ঘাটতি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা।

২. ওজনজনিত কারণ:

জন্মের সময় নবজাতকের ওজন অত্যন্ত কম (Low Birth Weight) বা অত্যধিক বেশি হলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি থাকে।

৩. প্রিম্যাচিউরিটি (অকালপ্রসব):

গর্ভধারণের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই (৩৭ সপ্তাহের আগে) জন্ম নেওয়া শিশুদের লিভার এবং ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকশিত হয় না, ফলে তাদের রক্তে গ্লুকোজ লেভেল দ্রুত কমে যায়।

৪. খাবারের ঘাটতি:

শিশুকে জন্মের পরপরই পর্যাপ্ত বুকের দুধ বা ফর্মুলা না খাওয়ালে গ্লুকোজের অভাব দেখা দিতে পারে।

৫. অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জটিলতা:

কিছু শিশু লিভার বা হরমোনের সমস্যায় ভোগে, যা গ্লুকোজ উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে।

নবজাতকের রক্তে সুগার লেভেল কমে যাওয়ার লক্ষণ:

ঝিমুনি ভাব বা চরম নিস্তেজতা

কাঁপুনি বা খিঁচুনি

শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

ঠোঁট বা ত্বক নীলচে হয়ে যাওয়া

বুকের দুধ খেতে না চাওয়া বা খেতে অসুবিধা

নবজাতকের রক্তে সুগার লেভেল কমে গেলে করণীয়:

১. শিশুকে নিয়মিত খাওয়ানো:

জন্মের পর ১ ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা উচিত। শিশুকে ঘন ঘন এবং পর্যাপ্তভাবে দুধ খাওয়ানো রক্তের গ্লুকোজ ঠিক রাখতে সহায়তা করে।

২. গ্লুকোজ সাপ্লিমেন্টেশন:

যদি শিশুর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব কমে যায়, তবে চিকিৎসকরা মুখে বা শিরায় (IV) গ্লুকোজ সরবরাহ করতে পারেন।

৩. মায়ের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:

গর্ভকালীন সময়ে মায়ের ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়মিত মনিটর করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।

৪. নবজাতকের পর্যবেক্ষণ:

ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্মের পরপরই রক্তে গ্লুকোজ লেভেল পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং যেকোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:

গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা।

সঠিক সময়ে প্রসব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা।

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রতি উৎসাহিত করা।

ঝুঁকিপূর্ণ নবজাতকদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া দেওয়ার আগে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ করা।

নবজাতকের সুগার লেভেল কমে যাওয়া একটি তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের দাবি করে এমন জটিল অবস্থা। তাই গর্ভকালীন এবং জন্ম-পরবর্তী সময়ে সতর্কতার সাথে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা এবং শিশুর স্বাস্থ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলেই এই সমস্যাকে এড়ানো সম্ভব।

রেফারেন্স:

1. Hay, W. W. (2019). Neonatal Hypoglycemia: Management and Outcomes. Journal of Perinatology.

2. Stanley, C. A., & Baker, L. (2016). The Role of Insulin in Neonatal Hypoglycemia. Clinical Endocrinology & Metabolism.

3. World Health Organization (2023). Care of the Preterm and Low-Birth-Weight Newborn.

4. Cloherty, J. P., Eichenwald, E. C., & Hansen, A. R. (2019). Manual of Neonatal Care.

 

 

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *