রক্তে লেখা ভাষা; কণ্ঠে তার প্রতিধ্বনি : একজন নাক–কান–গলা চিকিৎসকের উপলব্ধি

২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাংলার তরুণেরা রাজপথে নেমেছিলেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে সেদিন শহীদ হয়েছিলেন আবদুস সালাম, আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল জব্বার, শফিউর রহমানসহ অনেকে। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমাদের ভাষার অধিকার এবং আত্মপরিচয়ের ভিত্তি।

একজন নাক–কান–গলা চিকিৎসক হিসেবে প্রতিদিন আমি কণ্ঠের মূল্য নতুন করে উপলব্ধি করি। গলা ভাঙা বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনের কারণে যখন কোনো রোগী স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না, তখন বোঝা যায়—নিজের ভাষায় স্পষ্টভাবে কথা বলার ক্ষমতা কত বড় আশীর্বাদ। চিকিৎসার পর যখন সেই রোগী আবার স্বচ্ছ কণ্ঠে “মা” বলে ডাকতে পারেন, তখন ভাষার শক্তি ও স্বাধীনতার তাৎপর্য আরও গভীরভাবে অনুভব করি।

ভাষা শুধু উচ্চারণের মাধ্যম নয়; এটি আবেগ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নিজের ভাষাকে ভালোবাসা মানে নিজের শিকড়কে ভালোবাসা।

আজকের অঙ্গীকার হোক—শুদ্ধ বাংলার চর্চা, ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একুশের চেতনা পৌঁছে দেওয়া।

ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও দোয়া।
ভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারে—একুশ থাকুক মনে ; কণ্ঠ থাকুক সুস্থ।

বিনম্র শ্রদ্ধায় –
ডা: মো: আব্দুল হাফিজ শাফী
নাক–কান–গলা বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক (ইএনটি)
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *