মুসলিম খান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বৈরশাসকের কালো থাবার ছোবল থেকে নিরীহ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে নিয়োজিত একটি নাম। ইউরোপের একটি বৃহৎ মানবাধিকার সংস্থা “নিরাপদ বাংলাদেশ চাই, ইউকে” -এর কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তাঁর বলিষ্ট নেতৃত্বে সুদুর ইউরোপে বসবাসরত শান্তিপ্রিয় জনতা আজ মানবাধিকার প্রশ্নে দলমত নির্বিশেষে একই পতাকা তলে সমবেত। তাঁর বলিষ্ট উচ্চারণে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন বাংলার মানবাধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে নিবেদিত কোটি প্রাণ। সাংবাদিকতার জগতেও রয়েছে তাঁর অবাধ বিচরণ। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এমএসটিভি-ইউকে অনলাইনে জনপ্রিয় একটি টিভি চ্যানেল।
১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নের বড়চাল গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ও খান বংশে মুসলিম খানের জন্ম। মরহুম পাঠান খান ও মোছাঃ রিজিয়া খাতুনের জেষ্ঠ সন্তান তিনি।
তাঁর শিক্ষা জীবনের সূচনা নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। তখন থেকেই তাঁর সৃজনশীল মনোভাব ও নেতৃত্বের গুণাবলী শিক্ষদের আকৃষ্ট করে। ১৯৯৭ সালে মঈনপুর বহুমূখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্ত্বীর্ণ হন। গোবিন্দগঞ্জ আব্দুলহক ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৯৯৯ সাথে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই মুসলিম খান ছিলেন প্রখর মেধা ও উপস্থিত বুদ্ধিমত্বার অধিকারী। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতেই থাকতেন তিনি। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। তৎকালীন উত্তপ্ত রাজনৈতিক মাঠে তাঁর অত্যন্ত সাহসীপূর্ণ পদক্ষেপের সাক্ষী হয়ে আছে সিলেটের অলি-গলি-রাজপথ।
শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি তাঁর অর্জিত ডিগ্রীর আলোকেই নিজেকে ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত করেন। পাশাপাশি ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠনে যোগদান করে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যান। বিভিন্ন সামাজিক সংস্থায় সম্পৃক্ত হয়েও তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনে যোগদান করে তিনি বাংলাদেশের খেটে খাওয়া দীন মজুরদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনেক সংগ্রাম করেছেন।
পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে আরো ভালো কিছু করার তাগিদে তিনি পাড়ি জমান সুদূর বিলেতে। সেখানে গিয়েও থেমে থাকেননি মুসলিম খান। চাকুরি করার পাশাপাশি বাংলাদেশের নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে তিনি সমমনাদের নিয়ে গড়ে তুলেন একটি বৃহৎ মানবাধিকার সংগঠন- “ নিরাপদ বাংলাদেশ চাই-ইউকে” । তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে উক্ত মানবাধিকার সংগঠনটি খুব অল্প সময়ের ব্যবধানেই সমগ্র ইউরোপ ব্যাপী বিস্তৃতি লাভ করে। বর্তমানে তিনি এর কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
গণমাধ্যম জগতেও মুসলিম খানের রয়েছে নির্ভিক পদচারনা। নির্ভয়ে সত্য প্রচারের প্রত্যয় নিয়ে ইউরোপের বুকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “এমএসটিভি ইউকে “ নামে একটি জনপ্রিয় অনলাইন টিভি। বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত অনলাইন টিভি ক্লাব ইউকে এর প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম আহবায়ক, ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাবের সমাজ সেবা সম্পাদক এবং হিউম্যানিটি ক্লাব ইউরো বাংলা ইউকে –এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।
দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে মুসলিম খান তাঁর হৃদয় নিংড়িয়ে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তা মিডিয়ার কল্যাণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। বাংলাদেশের স্বৈরশাসকের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে তাঁর নির্ভিক কর্মকান্ড দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিরত থাকুক এটাই আজ মুক্তিকামী জনতার প্রত্যাশা।






