মুক্তবাংলা রিপোর্ট :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমাদের তিনটি মৌলিক অঙ্গীকার হলো শিক্ষা সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন।”
শনিবার সকালে ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এফডিইবি)-এর বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কাকরাইলের আইডিইবি ভবনের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনটি এফডিইবি’র উদ্যোগে আয়োজিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর অসুস্থতার সময়ে দেশ-বিদেশ থেকে খোঁজখবর নেওয়া ও দোয়া করার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ফোরামের অন্যতম সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের দমনপীড়নে নিহতদের শহীদ হিসেবে কবুল করার জন্য আমি দোয়া করছি। গুম-নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলো আজও দুঃসহ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, দেশে ‘আয়নাঘর’সহ গোপন নির্যাতন কেন্দ্রের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে, যা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কখনো ছিল না। তিনি বলেন, “অসংখ্য শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে এ দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ চায় তারা স্বাধীন নাগরিক হিসেবে মর্যাদার সাথে বাঁচুক, জীবন-সম্পদের নিরাপত্তা পাক এবং যুবকেরা কর্মসংস্থান পাক। কিন্তু আমরা এখনও সে বাস্তবতা তৈরি করতে পারিনি। এখন ব্যর্থতার ইতিহাস থেকে সফলতার ইতিহাস রচনা করতে হবে।”
শিক্ষা সংস্কারের অঙ্গীকার
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে নৈতিকতাহীন ও অকার্যকর আখ্যায়িত করে আমীরে জামায়াত বলেন, “যাদের হাতে শিক্ষা পরিকল্পনার দায়িত্ব, তাদের সন্তানরা দেশের এই শিক্ষাব্যবস্থায় পড়ে না। তাই তারা জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে না।”
তিনি প্রকৌশল ও কৃষি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বুয়েট ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবীরা জাতির গর্ব। কৃষিবিদরা সরাসরি দেশের খাদ্য ও অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল পেলে এ খাত আরও এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল খাত পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে তিনি পাঁচটি বিষয় উল্লেখ করেন— পরিকল্পনার অভাব, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, ভিশনের অভাব, সাহসের অভাব এবং প্রচেষ্টার অভাব।
দুর্নীতি দমন
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের দ্বিতীয় অঙ্গীকার হলো দুর্নীতির জোয়ার কেটে দেয়া। ইনসাফের ভিত্তিতে যার যা পাওনা, তা তার হাতে পৌঁছে দিতে হবে। ঘুষ ও অবৈধ সম্পদের অবসান ঘটাতে হবে। এতে জাতির অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন
তিনি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মিডিয়া জাতির দর্পণ, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলতে হবে—সেটি আমাদের বিরুদ্ধেও হলেও। সত্য ও সাহসী সাংবাদিকতাই জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারে।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ক্ষমতায় গেলে জনগণকে অধিকার আদায়ে রাস্তায় নামতে হবে না; ইনসাফের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, “নিজেদের দোষত্রুটি নিয়ে কামড়াকামড়ি না করে ইতিবাচক কর্মসূচি ও গঠনমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে জাতিকে আশার আলো দেখাতে হবে। আমাদের তিনটি মৌলিক অঙ্গীকার হলো— শিক্ষা সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সে তৌফিক দান করুন।”
