📅 ১৬ জুলাই ২০২৫, ঢাকা | মুক্তবাংলা নিউজ
আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে ‘জুলাই শহীদ দিবস’, এক বছর আগে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ-এর আত্মত্যাগ স্মরণে এ দিনটি পালিত হচ্ছে। জাতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আজকের এই দিবস জাতীয় শোক ও গণআন্দোলনের প্রতীক হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।
🔹 শহীদের রক্তে রাজপথে নতুন ইতিহাস
গত বছর এই দিনে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, রংপুরে কোটাবিরোধী গণআন্দোলনের এক উত্তাল মুহূর্তে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তরুণ ছাত্রনেতা আবু সাঈদ। আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সর্বস্তরের জনতা রাজপথে নেমে আসে এবং মাত্র ২০ দিনের মাথায় হাজার হাজার নিরীহ ছাত্রের খুনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আন্দোলনটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোটার সংস্কার ও সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লাখো ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে গড়ে উঠেছিল। সেদিনের রক্তাক্ত ঘটনার ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে, সৃষ্টি হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া।
🔹 সরকারিভাবে দিবস ঘোষণা
একবছর পর, ২০২৫ সালের ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৬ জুলাইকে সরকারিভাবে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেন উপসচিব তানিয়া আফরোজ। এতে জানানো হয়, দিনটি এখন থেকে প্রতিবছর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসের তালিকায় ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হবে।
🔹 সারাদেশে শোক ও স্মরণ
দিবসটি উপলক্ষে আজ দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কালো ব্যাজ ধারণ, আলোচনা সভা, মোমবাতি প্রজ্বালন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এবং রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাজারো ছাত্র-জনতা আবু সাঈদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন,
“আবু সাঈদের আত্মত্যাগ আমাদের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সমতার জন্য নতুন প্রত্যয় তৈরি করেছে। এ দিবস কেবল শোক নয়, এটি নতুন আশার নাম।”
🔹 আবু সাঈদ: আন্দোলনের প্রতীক
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদ ছিলেন কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখ সারির সংগঠক। তার পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকরা আজও তার নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।
🔖 মুক্তবাংলা নিউজ জাতির এই সংগ্রামী ইতিহাসকে সম্মান জানায় এবং দাবি জানায় যেন এই দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথকে শক্তিশালী করে।
