সিলেটে আল্লামা শায়েখ ইসহাক আল-মাদানী (রাহিমাহুল্লাহ)’র স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সিলেটের শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক প্রধান মুহাদ্দিস, প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক আল্লামা শায়েখ ইসহাক আল-মাদানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল গতকাল জামেয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষাবিদগণ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লি:-এর চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদ মাওলানা হাবীবুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন জামেয়ার অধ্যক্ষ ও ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মাওলানা লুৎফুর রহমান। পুরো অনুষ্ঠানটি সুচারুরূপে সঞ্চালনা করেন মুফতি মাওলানা আলী হায়দার।

প্রধান অতিথি মাওলানা হাবীবুর রহমান বলেন, “আল্লামা শায়েখ ইসহাক আল-মাদানী (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন জ্ঞানের এক উজ্জ্বল বাতিঘর। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আজীবন আমাদের পথ দেখাবে। ইসলামের প্রচার ও প্রসারে তাঁর অবদান অতুলনীয়।”

সভাপতি মাওলানা লুৎফুর রহমান বলেন, “তিনি শুধু একজন মুহাদ্দিস ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন মহান শিক্ষক ও মুরব্বী, যিনি ছাত্রদের হৃদয়ে আলোর সঞ্চার করেছেন। তাঁর অনুপস্থিতি আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”

সভায় স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল-মাদানী, জামেয়ার উপাধ্যক্ষ ও মরহুমের সুযোগ্য ছাত্র মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, সহকারী অধ্যাপক মাওলানা কমর উদ্দিন, মুহাদ্দিস মাওলানা হাবীবুল্লাহ, হাজি কুদরতল্লাহ মসজিদের ইমাম ও খতীব এবং জামেয়ার আরবি প্রভাষক শায়েখ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান, মরহুমের পুত্র হাফেজ মাওলানা হাসান আল-বান্না, ছাত্র প্রতিনিধি কাওছার হামীদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক জনাব আলী আহমদ, সহকারী অধ্যাপক ফারুক মিয়া, জনাব আবু বকর সিদ্দিক, মাওলানা সাইফুর রহমান, মাওলানা শওকত আলীসহ জামেয়ার অসংখ্য ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, আল্লামা শায়েখ ইসহাক আল-মাদানী (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন এক মহান শিক্ষাবিদ ও গবেষক, যিনি ইসলামী শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে আজীবন আত্মনিয়োগ করেছেন। তাঁর জ্ঞানগর্ভ লেখনি ও শিক্ষাপদ্ধতি নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁরা আরও বলেন, তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষার আলোকে পথ চলাই প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে, যেখানে মরহুমের রুহের মাগফিরাত, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং শিক্ষার অগ্রগতি কামনা করা হয়।

 

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *