নর্থ ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী হল শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল এক ব্যতিক্রমধর্মী পারিবারিক গেট টুগেদার। “চলো না ঘুরে আসি” এই প্রাণবন্ত স্লোগানকে সামনে রেখে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুসংহত ও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন নর্থ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর থেকে আগত শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর।
গত ১০ মে রবিবার হল এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে নর্থ হল কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন যেন প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও এক টুকরো বাংলাদেশকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
সমাজকর্মী, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সলিসিটর, কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। শিশুদের হাসি, পরিবারগুলোর আন্তরিক মিলন আর প্রবাসীদের উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে এক আবেগঘন মিলনমেলা।
সংগঠনের সভাপতি মাহতাসিন আলীর সভাপতিত্বে এবং মাহমুদ হুসেন ও হুমায়ূনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শহর থেকে আগত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা আনওয়ার আলী জিতু, আবুল কাশেম খান, সলিসিটর আনসার হাবিব, গয়াস খান, আজাদ মিয়া, ছালিক মিয়া, গুলজার হুসেন, মোহাম্মদ আলী আশরাফ, মুজিবুর রহমান ও আব্দুল খালিকসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, প্রবাসে এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশি কমিউনিটির পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করে।
মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের মধ্যেও উপস্থিত ছিলেন নর্থ ইংল্যান্ড টিভি রিপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম জে কিবরিয়া, নর্থ বাংলা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল আমিন তারেক এবং মুক্তবাংলার চেয়ারম্যান ও এনটিভি ইউরোপের সাংবাদিক সারওয়ার হোসেইন।
অনুষ্ঠানের এক বিশেষ আকর্ষণ ছিল এবারের স্থানীয় নির্বাচনে হল সিটির প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলর মতছিন আলীকে কমিউনিটির পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো। এ সময় উপস্থিত সবার করতালি ও ভালোবাসায় মুহূর্তটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত আবেগঘন ও স্মরণীয়।
হল সিটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চার শতাধিক নারী-পুরুষের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে আরও মনোমুগ্ধকর ও প্রাণবন্ত করে তোলে। আয়োজকরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মিলনমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা ও দূরত্বের মাঝেও এ ধরনের কমিউনিটি গেট টুগেদার বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
