সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাই আমাদের মূল কাজ — ড. মাওলানা হিফযুর রহমান

মুক্তবাংলা নিউজ ডেস্ক | সিলেট প্রতিনিধি

সিলেটের শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় আজ অনুষ্ঠিত হলো তামাদ্দুনিক ও সীরাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও সীরাত মাহফিল। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল আধ্যাত্মিক প্রেরণা, জ্ঞানচর্চা ও নৈতিক জাগরণের এক অনন্য সমাবেশ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, শিক্ষাবিদ ও গবেষক, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সম্মানিত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা হিফযুর রহমান তাঁর গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বক্তৃতায় বলেন,

“মহান আল্লাহ আমাদের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন মানুষের কল্যাণের জন্য। শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর উম্মত হিসেবে সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও অসৎ কাজের নিষেধ করা এখন আমাদের দায়িত্ব। এটাই আমাদের মূল কাজ — এই দায়িত্ব পালনেই নিহিত রয়েছে মানবতার মুক্তি ও সমাজের শান্তি।”

তিনি আরও বলেন,

“যে জাতি কুরআনের আদর্শে নিজেদের গড়ে তুলবে, সে জাতি কখনও পতিত হতে পারে না। তাই প্রতিটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে দ্বীনের দাওয়াতের বার্তা মানুষের অন্তরে পৌঁছে দিতে হবে।”

অনুষ্ঠানের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক, জামেয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী তাঁর সভাপতির বক্তব্যে বলেন,

“শিক্ষা শুধু জ্ঞানের অর্জন নয়; এটি চরিত্র গঠনের এক মহান সাধনা। সীরাত অধ্যয়ন আমাদের শেখায় কীভাবে নবীর (সা.) আদর্শে জীবন সাজাতে হয়। আজকের তরুণ প্রজন্ম যদি সেই আদর্শ বুকে ধারণ করে, তবেই সমাজে সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে।”

জামেয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদ মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার   তাঁর বক্তব্যে বলেন,

“সীরাতুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক পাঠ নয়; এটি একটি জীবন্ত আলোকধারা, যা অন্ধকার যুগেও মানুষের হৃদয়ে ঈমানের প্রদীপ জ্বালায়। আমাদের সমাজে যত অনাচার, অবিচার ও নৈতিক অবক্ষয় — সব কিছুর প্রতিষেধক নিহিত আছে নবী করীম ﷺ এর জীবনাদর্শে। শিক্ষার্থীরা যদি সীরাত অধ্যয়নকে নিজেদের জীবনবিধান হিসেবে গ্রহণ করে, তবে তারা হবে জাতির প্রকৃত সম্পদ।”

তিনি আরও বলেন,

“আজকের যুবসমাজের মাঝে যে হতাশা ও বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে, তার একমাত্র ওষুধ হলো নবীর আদর্শ। আমাদের সন্তানদেরকে প্রযুক্তি ও জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিকতার আলোয় আলোকিত করতে হবে — তাহলেই তারা হবে দুনিয়া ও আখিরাতে সফল।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামেয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত) ও সহকারী অধ্যাপক মাওলানা কমর উদ্দিন, মুহাদ্দিস মাওলানা হাবিবুল্লাহ, প্রভাষক মাওলানা সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানি, মুফতি মাওলানা আলী হায়দার প্রমুখ।

সীরাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয় নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদপত্র। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন জামেয়ার সহকারী অধ্যাপক আলী আহমদ ও সহকারী মৌলভী মাওলানা হেলাল আহমদ

সন্ধ্যার পর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুগ্ধ হয় উপস্থিত হাজারো দর্শক। পরিবেশনায় অংশ নেয় জামেয়ার আল-ফালাহ সাংস্কৃতিক সংসদ ও সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দিশারী শিল্পী গোষ্ঠী

 

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *