এমদাদুল ইসলাম, সিলেট:
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশ গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (শনিবার) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামেয়ার উপাধ্যক্ষ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইবতেদায়ি শাখার প্রধান মাওলানা শওকত আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামেয়ার অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী বলেন,
“শিক্ষার্থীদের দ্বীনি ও দুনিয়াবি উভয় শিক্ষায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষকরা মাদরাসায় পাঠদান করবেন, আর অভিভাবকরা ঘরে সন্তানের শিষ্টাচার, শৃঙ্খলা ও অনুশীলনের দিকগুলো খেয়াল রাখবেন—এভাবেই প্রকৃত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হয়। আমাদের লক্ষ্য কেবল পরীক্ষায় সাফল্য নয়; বরং যোগ্য, নৈতিক ও সমাজের উপযোগী মানুষ তৈরি করা।”
সভাপতির বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার বলেন,
“একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে শিক্ষক-অভিভাবক সম্পর্কের উপর। অভিভাবকরা যদি তাদের সন্তানদের শিক্ষার প্রতি যত্নবান হন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন, তবে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রেও আদর্শ হতে পারবে। জামেয়া ইসলামিয়া সবসময় মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামেয়ার মর্নিং শিফটের ইনচার্জ মাওলানা আবু সালেহ মুহাম্মদ আলাউদ্দিন শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনে অভিভাবক ও শিক্ষকদের যুগপৎ দায়িত্বের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জাহেদ আহমেদ, গোলাম আজাদ, আব্দুল কাদির, মো. জাকির হোসেন, মাকসুদুর রহমান চৌধুরী, মীর মাহমুদুর রহমান ও হুমায়ুন কবির বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও শিক্ষকদের নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকার কারণে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও চরিত্র উভয় দিকেই অগ্রসর হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি সমাবেশকে প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
