মুক্তবাংলা নিউজ ডেস্ক | বার্মিংহাম | ১২ মে ২০২৫
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ এবং ওসমানী থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর দাবিতে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রেরণ বন্ধ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বয়কটের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
সোমবার (১২ মে) বার্মিংহামের বাংলাদেশ মাল্টিপারপাস সেন্টারে আয়োজিত এ গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ফয়জু রহমান চৌধুরী।
বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আহ্বায়ক কে এম আবু তাহের চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান কোরেশী, সদস্য সচিব আব্দুর রব, অর্থ সচিব ও সলিসিটর মোহাম্মদ ইয়াওর উদ্দিন, এম এ লতিফ জেপি, আজাদ চৌধুরী এমবিই, আব্দুল মালিক পারভেজ, কামরুল হাসান চুনু, মাফিজ খান, আব্দুর রশীদ, আব্দুল কাদির আবুল, ফিরোজ খানসহ আরও অনেকে।
সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও আজও ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়া হয়নি, যা প্রবাসীদের প্রতি সরকারের অবহেলা ও বৈষম্যমূলক মনোভাবের প্রতিফলন। অথচ চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতি সপ্তাহে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হলেও সিলেট থেকে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও পরিচালিত হচ্ছে না।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বার্মিংহাম শহরেই প্রায় আড়াই লাখ সিলেটি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তারা নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াত করেন এবং অর্থনৈতিকভাবে দেশকে সহায়তা করে আসছেন। অথচ এত বড় প্রবাসী জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বার্মিংহাম থেকে কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করছে না, যা অনভিপ্রেত এবং অযৌক্তিক।
সভায় বক্তারা একবাক্যে বলেন, “আমরা আর বৈষম্য সহ্য করবো না। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা না হয় এবং বার্মিংহাম ও ওসমানী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু না করা হয়, তাহলে আমরা প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠানো বন্ধ করে দেব এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে সম্পূর্ণভাবে বয়কট করবো।”
প্রবীণ, তরুণ ও মধ্যবয়সী প্রবাসী নেতৃবৃন্দ একযোগে বলেন, প্রবাসীরা আর শুধু প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে না—বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, সিলেটের জনগণকে বারবার অবহেলা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
সভায় অংশগ্রহণকারী সকল নেতৃবৃন্দ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিমান কর্তৃপক্ষকে অতি দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
