মুক্তবাংলা নিউজ ডেস্ক:
সিলেটের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা আজ আলিম, ফাজিল ও কামিল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক বর্ণাঢ্য শিক্ষা সমাবেশের আয়োজন করেছে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে মাদরাসা প্রাঙ্গণ শেখার আবেগে মুখরিত হয়ে ওঠে।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রভাষক মাওলানা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং মাওলানা নাজমুল হুদা তোফায়েল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও গবেষক, উত্তর বাড্ডা ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মোল্লা। তিনি বলেন,
“জ্ঞান হচ্ছে মানুষের প্রকৃত শক্তি। যে জাতি জ্ঞানে অগ্রসর, সেই জাতিই নেতৃত্ব দেয়। আমরা ঘুমিয়ে যা দেখি তা স্বপ্ন নয়; প্রকৃত স্বপ্ন হলো সেই লক্ষ্য, যা অর্জনের নেশায় মানুষ ঘুমাতে পারে না। তোমাদের লক্ষ্য বড় হতে হবে—যত বড় লক্ষ্য, তত বড় সাফল্যের সম্ভাবনা।”
তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও নেতৃত্বগুণ অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করে আরও বলেন,
“দ্বীনি জ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয় এখন সময়ের দাবি। তোমরা এমন একটি প্রজন্ম—যাদের ওপর সমাজকে সৎপথে পরিচালনার দায়িত্ব বর্তায়। চরিত্রবান, পরিশ্রমী, ভদ্র ও চিন্তাশীল মুসলিম হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “তোমাদের প্রতিটি দিন একটি বিনিয়োগ—নিজেদের, সমাজের, জাতির এবং উম্মাহর ভবিষ্যতের জন্য। সময়ের সঠিক ব্যবহার, অধ্যবসায় এবং আল্লাহর ওপর ভরসার মাধ্যমে তোমরা অবশ্যই সফল হবে।”
সভাপতি মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী শিক্ষার বহুমাত্রিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,
“জামেয়া শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মানবগঠনের কারখানা। আমরা এমন এক প্রজন্ম তৈরি করতে চাই যারা জ্ঞান, নৈতিকতা, বিনয় ও মানবিকতার সমন্বয়ে সমাজকে আলোকিত করবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন,
“তোমরা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছো। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো না গেলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার থেকে যায়। আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ে অধ্যয়ন একটি ইবাদত; তাই প্রতিটি আচরণে দায়িত্বশীলতা ও শৃঙ্খলা থাকা আবশ্যক।”
তিনি বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বলেন,
“প্রযুক্তি, তথ্যপ্রবাহ ও বিশ্বায়নের এই যুগে তোমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও প্রসারিত করতে হবে। ইসলামের সৌন্দর্য তোমাদের মাধ্যমে সমাজে ফুটে উঠবে—এই দায়িত্ব তোমাদেরই পালন করতে হবে।”
শিক্ষকদের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন,
“শিক্ষকরা শুধু পাঠদান করেন না; তাঁরা হৃদয় গঠন করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের প্রাণশক্তি।”
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন,
“নিজেদের চরিত্রকে পবিত্র রাখো, সময়ের মর্যাদা দাও, সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকো। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে মেহনতে অবিচল থাকলে তোমাদের সামনে সফলতার দ্বার স্বয়ং খুলে যাবে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ, ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদ মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, উপাধ্যক্ষ (অতিরিক্ত) মাওলানা কমর উদ্দিন, মুহাদ্দিস মাওলানা হাবীবুল্লাহ, এবং প্রভাষক শায়েখ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান মাদানী।
তাঁরা সবাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা, আদর্শিক দৃঢ়তা ও সমাজ গঠনের দায়িত্ব সম্পর্কে অনুপ্রাণিত করে
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ভাবেই নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তাদের বক্তব্যে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা ও ভবিষ্যতের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার এ শিক্ষা সমাবেশ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধকে নতুনভাবে জাগ্রত করেছে। উপস্থিত শিক্ষক-অতিথিদের মতে, এমন আয়োজন ভবিষ্যতে একটি সৎ, জ্ঞাননিষ্ঠ ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন প্রজন্ম তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
