দ্বীনি শিক্ষার ৪২ বছরের গৌরবগাথা: শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় সিলেট মুখর

স্টাফ রিপোর্টার: 

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে গত ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার সকাল ১১টায় এক বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী শিক্ষা, ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলার এক অনন্য প্রদর্শনীতে এদিন সিলেট নগরী যেন জামেয়ার গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ওঠে।

শোভাযাত্রাটি জামেয়া প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জামেয়া প্রাঙ্গণেই এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন জামেয়ার অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, অতিরিক্ত উপাধ্যক্ষ মাওলানা কমর উদ্দিনসহ জামেয়ার শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের শৃঙ্খলাবদ্ধ উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত পরিবেশ নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অধ্যক্ষ মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী বলেন, ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটের কাজলশাহ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সীমিত পরিসরে শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার যাত্রা শুরু হয়। নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে ১৯৮৬ সাল থেকে পাঠানটুলার নিজস্ব ক্যাম্পাসে শ্রেণী কার্যক্রম চালু হয়। আল্লাহর রহমত ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ এই প্রতিষ্ঠান দ্বীনি শিক্ষার এক শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জামেয়ায় প্রায় চার হাজার ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে এবং শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও ফলাফলের ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে জামেয়া জাতীয় পর্যায়ে দুইবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়, বরং সিলেটবাসী ও দেশবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।

উপাধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার তাঁর বক্তব্যে বলেন, শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফলাফলের দিক দিয়ে সিলেট বিভাগে প্রতি বছর প্রথম স্থান অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে নিয়মিতভাবে টপ টুয়েন্টিতে স্থান লাভ করা শিক্ষার্থীদের মেধা ও শিক্ষকদের নিবেদিত প্রচেষ্টার উজ্জ্বল প্রমাণ।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জামেয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে দেশ, সমাজ ও উম্মাহর কল্যাণে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। নৈতিকতা ও আদর্শের আলোয় আলোকিত মানুষ হিসেবেই জামেয়ার শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে জামেয়ার উত্তরোত্তর সাফল্য, শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *