শেফিল্ডে সম্প্রীতির বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন

ইলিয়াস আকরাম, শেফিল্ড :
যুক্তরাজ্যের শেফিল্ডে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে সম্প্রীতির বাংলাদেশ। শনিবার (১০ মে) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শেফিল্ডের ইউমিক্স সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ মোজাক্কির আহমদ-এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ইলিয়াস আকরাম-এর উপস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য আবটিসাম মোহামেদ।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন আহিয়ান তালহা। পরে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান মুসা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর ইব্বি উল্লাহ, ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম-এর রিসার্চ ফেলো ড. তানভীর আহমেদ, শেফিল্ড হলাম ইউনিভার্সিটি-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর দেওয়ান মুক্তাদির আল মুকিত, একাউন্ট্যান্ট খন্দকার নোমান আহমেদ, লেখক ও সাংবাদিক আহমদ হোসেন হেলাল, কমিউনিটি সংগঠক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন লিংকন, শেখ আবদুল কাইয়ুম এবং শেফিল্ড হলাম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাওলানা সৈয়দ জাকারিয়া আহমদ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আবুল কালাম চৌধুরী, আব্দুল জলিল, আক্তার হোসেন, আফজল মিয়া, আব্দুর রহিম আহমদ, ওয়াজেদ আলী, আব্দুর রহমান, সোহেল আহমদ, ইমরান উদ্দিন, সবুজ মিয়া, মোবারক আলী ও ফজল মিয়া প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা ১৮৮৬ সালে শিকাগো শহরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শ্রমিকদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখনো অনেক দেশে শ্রমজীবী মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে বাংলাদেশে শ্রমিকদের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে শ্রমের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয় বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন।

বক্তারা আরও বলেন, দেশে শ্রমিকদের জন্য যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা বীমা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে তারা রানা প্লাজা ট্রাজেডিসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেন।

সভা থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত এবং বিদ্যমান সমস্যার দ্রুত সমাধানে ১০ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে ছিল বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ, সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে অগ্নি ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জোরদার করা, শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু, নারী শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, শিশুশ্রম নির্মূল, শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা, স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের আবাসন সুবিধা এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।

বক্তারা বলেন, শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *