জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিলো জামায়াতের মহাসমাবেশঃ উপাধ্যক্ষ ফয়জুল্লাহ বাহারের বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনা

মুক্তবাংলা নিউজ ডেস্ক | ২০ জুলাই ২০২৫, ঢাকা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় মহাসমাবেশ’ ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সাত দফা দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশ সম্পর্কে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ, উপাধ্যক্ষ সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে এক বিশ্লেষণাত্মক মন্তব্য করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যেই আলোচিত হচ্ছে।

সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার বলেন, “এটা কার্যত স্মরণকালের সবচেয়ে বৃহৎ সমাবেশ ছিল রাজধানীর বুকে।” তিনি উল্লেখ করেন, এই উপস্থিতি ছিল গণমানুষের চেতনার বহিঃপ্রকাশ এবং জামায়াতের সাংগঠনিক সক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

জাতীয় ঐক্যের বার্তা ও ইসলামী শক্তির সম্মিলন

উক্ত সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলনসহ ইসলামপন্থী বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন। উপাধ্যক্ষ বাহার এটিকে “ইসলামী ঐক্যের আশাজাগানিয়া দৃষ্টান্ত” হিসেবে দেখেছেন।

তিনি বলেন, “খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাসিত আযাদ ও ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদের জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের হাসপাতালে খোঁজ নিতে যাওয়া ইসলামী রাজনীতির একটি উজ্জ্বল দিক।”

বিএনপির অনুপস্থিতি: কৌশল না দূরত্ব?

বিএনপির অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলেও সৈয়দ ফয়জুল্লাহ মনে করেন, এটি ছিল কৌশলগত একটি সিদ্ধান্ত। তাঁর ভাষায়, “বিএনপি পিআর পদ্ধতির (অনুপাতিক নির্বাচন) বিরোধী, যেটি জামায়াতের সাত দফার একটি। সেখানে গিয়ে বিএনপি নেতার পিআর বিরোধী বক্তব্য দিলে তা বিব্রতকর হতো উভয়পক্ষের জন্য।”

তিনি আরও বলেন, জামায়াত নেতারা বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি, যদিও বিএনপির কিছু নেতার বক্তব্যে জামায়াত-বিরোধিতা ফুটে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয়, বিএনপির এখান থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।”

আন্তরিকতার প্রতিচ্ছবি: সমাবেশে এনসিপি নেতার দোয়া

জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্যরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে, এনসিপি নেতা সার্জিস আলম মুনাজাত শুরু করেন। উপাধ্যক্ষ ফয়জুল্লাহ এই ঘটনাকে “হৃদয়ছোঁয়া আন্তরিকতা” আখ্যা দেন এবং বলেন, “এই সম্পর্ক রাজনৈতিক সৌজন্যের এক অনন্য নিদর্শন।”

শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল সমাবেশের প্রশংসা

তিনি আরও বলেন, “জামায়াতের সমাবেশ ছিল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল। ব্যবস্থাপনার প্রশংসা না করে উপায় নেই।” এ ধরনের শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক রূপ প্রকাশ করে বলে মত দেন তিনি।

একজন ইসলামী নেতার প্রতিচ্ছবি

সমাবেশে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান অসুস্থ অবস্থায় দু’বার উঠে দাঁড়িয়ে, পরে বসে বক্তৃতা দেন। উপাধ্যক্ষ বাহার একে একজন “রিয়েল ইসলামী নেতার অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতিচ্ছবি” হিসেবে অভিহিত করেন।

শেষ কথা

উপাধ্যক্ষ সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশের রাজনীতি একটি ভালো ও ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে। তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন—“তিনি যেন দেশটিকে হেফাজত করেন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেন।”


প্রতিবেদন: মুক্তবাংলা নিউজ ডেস্ক
সূত্র: উপাধ্যক্ষ সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহারের ফেসবুক স্ট্যাটাস
প্রকাশকাল: ২০ জুলাই ২০২৫, রবিবার

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *