সাভার, ১২ সেপ্টেম্বর: উত্তেজনা ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রকাশিত এই ফলাফলে শীর্ষ পদগুলোতে চমকপ্রদ বিজয় অর্জন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট।
সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু জয়ী হয়েছেন, তবে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদসহ শীর্ষ চারটির মধ্যে তিনটি আসন দখল করেছে শিবির সমর্থিত জোট। জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন মাজহারুল ইসলাম। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (ছাত্র) হয়েছেন ফেরদৌস আল হাসান এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (ছাত্রী) হয়েছেন আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা—দুজনই শিবির সমর্থিত প্রার্থী।
ফলাফলে দেখা যায়, ২৫টি পদের মধ্যে ২১টিতেই বিজয়ী হয়েছে শিবির সমর্থিত প্যানেল। শিক্ষার্থী সমাজে এ যেন এক অভূতপূর্ব জোয়ার।
নির্বাচনে বিজয়ীদের তালিকা
- শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক: আবু ওবায়দা ওসামা (শিবির প্যানেল)
- পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সম্পাদক: মো. শাফায়েত মীর (শিবির প্যানেল)
- সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক: মো. জাহিদুল ইসলাম (শিবির প্যানেল)
- সাংস্কৃতিক সম্পাদক: মহিবুল্লাহ শেখ জিসান (স্বতন্ত্র)
- সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক: মো. রায়হান উদ্দীন (শিবির প্যানেল)
- নাট্য সম্পাদক: মো. রুহুল ইসলাম (শিবির প্যানেল)
- ক্রীড়া সম্পাদক: মাহমুদুল হাসান কিরন (স্বতন্ত্র)
- সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (নারী): ফারহানা আক্তার লুবনা (শিবির প্যানেল)
- সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ): মো. মাহাদী হাসান (শিবির প্যানেল)
- তথ্য প্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক: মো. রাশেদুল ইসলাম লিখন (শিবির প্যানেল)
- সমাজসেবা সম্পাদক: আহসাব লাবিব (বাগছাস)
- সহ-সমাজসেবা সম্পাদক (নারী): নিগার সুলতানা (শিবির প্যানেল)
- সহ-সমাজসেবা সম্পাদক (পুরুষ): মো. তৌহিদ হাসান (শিবির প্যানেল)
- স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সম্পাদক: হুসনী মোবারক (শিবির প্যানেল)
- পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক: মো. তানভীর রহমান (শিবির প্যানেল)
কার্যকরী সদস্য (নারী) পদে নাবিলা বিনতে হারুন, ফাবলিহা জাহান, নুসরাত জাহান ইমা এবং কার্যকরী সদস্য (পুরুষ) পদে মো. তরিকুল ইসলাম, আবু তালহা ও মো. আলী চিশতী নির্বাচিত হয়েছেন—এঁরা সবাই শিবির সমর্থিত জোটের প্রার্থী।
ভোটগ্রহণ ও উপস্থিতি
প্রচণ্ড উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে। ভোট শেষে টানা গণনা চলে শুক্রবার পর্যন্ত। দুই দফা স্থগিত হওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৭৪৩ জন; এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ৬,০১৫ জন এবং ছাত্রী ভোটার ৫,৭২৮ জন। ভোট দিয়েছেন ৮,০০৩ জন, যা মোট ভোটের প্রায় ৬৮ শতাংশ।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্যানেলসমূহ
২৫টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৯ জন, জিএস পদে ৮ জন, যুগ্ম সম্পাদক পদে নারী ৬ জন ও পুরুষ ১০ জন। পুরো নির্বাচনে অংশ নেয় ৮টি প্যানেল, যার মধ্যে বামপন্থি, শিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্ররা ছিল মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
ফলাফল ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বিজয়ী প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দেন—গণতন্ত্র, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় তারা নিরলসভাবে কাজ করবেন।
👉 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের জাকসু নির্বাচন প্রমাণ করল, শিক্ষার্থীরা সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বেছে নিতে সক্ষম।
