মুক্তবাংলা নিউজ ডেস্কঃ
আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জাতি পাকিস্তানি শাসন-শোষণ থেকে মুক্তি লাভ করেছিল। এবার বিজয় দিবস উদযাপন হচ্ছে এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর এটাই প্রথম বিজয় দিবস।
দ্বিতীয় মুক্তির পথচলা
স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী দেড় হাজারেরও বেশি শহীদ এবং আহত ও পঙ্গু কয়েক হাজার মানুষ জাতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছেন। তাদের ত্যাগকে অনেকে “দ্বিতীয় স্বাধীনতা” বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই অভ্যুত্থান ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক বিপ্লবী রূপ, যা জনতার আন্দোলনে পরিণত হয়।
স্বৈরাচার পতনের পর শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। সরকারের লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন। নতুন সরকার ইতোমধ্যে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একাধিক সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
শোক, শ্রদ্ধা, ও উদ্দীপনার সমন্বয়
এবারের বিজয় দিবস শুধু ১৯৭১-এর বীর শহীদদের স্মরণেই সীমাবদ্ধ নয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। যারা এখনও আহত অবস্থায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, তাদের আত্মত্যাগকেও জাতি স্মরণ করছে।
এবারের বিজয় দিবসে জনগণ নতুন এক শপথ নেবে—একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চেতনার পূর্ণ বাস্তবায়নই হবে এই শপথের মূল প্রতিশ্রুতি।
বিজয় দিবসের কর্মসূচি
দিনটি শুরু হবে ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে। এরপর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তাদের পর বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ জনগণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোকসজ্জা, এবং দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দের বাণী
প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত একটি দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনা ও মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বিজয় দিবস শুধু গর্বের উৎস নয়, এটি শপথের দিন। ১৯৭১-এর চেতনা সমুন্নত রেখে বৈষম্যহীন, সুশাসিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।”
সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ
৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। সংস্কার কমিশনের পরিকল্পনা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগ জাতিকে অপার সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছে।
এবারের বিজয় দিবসে প্রতিটি নাগরিকের আকাঙ্ক্ষা—একটি সমৃদ্ধ, সুশাসিত, এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। জাতি আজ শপথ নেবে, আর কখনোই স্বৈরাচার, শোষণ, বা দুর্নীতি তাদের বিজয়ের ক্যানভাস মলিন করতে পারবে না।
