মেধাবীদের রাষ্ট্র পরিচালনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান: অধ্যাপক ড. নজরুল হক চৌধুরী

১৯৮১ সালের শুরুতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডের মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আয়োজিত কৃতি ছাত্র সংবর্ধনা ও সমুদ্র ভ্রমণের স্মৃতিচারণ করেছেন অধ্যাপক ড. নজরুল হক চৌধুরী।

নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ১৯৮০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের মেধা তালিকায় প্রথম থেকে দশম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ আয়োজন করা হয়েছিল। ১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি বঙ্গভবনে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি ‘হিজবুল বাহার’ জাহাজে তিন দিনব্যাপী সমুদ্র ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। ঐতিহাসিক এই সমুদ্রভ্রমণের আয়োজনের বিষয়টি অন্যান্য সূত্রেও উল্লেখ পাওয়া যায়।

অধ্যাপক ড. নজরুল হক চৌধুরী বলেন, তিনি বিএসসি অনার্স ও এমএসসি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। তবে অনার্সের ফলাফলের ভিত্তিতে তিনি ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে অংশ নেন।

তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, বঙ্গভবনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের সবচেয়ে মেধাবীদের তিনি আমন্ত্রণ করেছেন, কারণ দেশ পরিচালনায় মেধাবীদের ওপর বড় দায়িত্ব রয়েছে। মেধাবীরা রাষ্ট্র পরিচালনায় এগিয়ে এলে দেশ দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক চৌধুরী আরও জানান, সমুদ্র ভ্রমণের সময় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর জিয়াউর রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আলোচনায় রাষ্ট্রপতি ভবিষ্যতে মেধাবী তরুণদের রাষ্ট্র পরিচালনায় এগিয়ে আসার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সক্রিয় থাকার আহ্বান জানাতেন।

অধ্যাপক চৌধুরীর দাবি, এসব আলোচনায় জিয়াউর রহমান তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপি কিংবা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নাম উচ্চারণ করেননি এবং কোনো দলীয় রাজনৈতিক বক্তব্যও দেননি। তাঁর বক্তব্যে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে দেশ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নিজেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক চৌধুরী বলেন, তিনি ওই দুটি অনুষ্ঠানের একজন অংশগ্রহণকারী হিসেবে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ কতটা ধারণ করছে, তা পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে কি না। তাঁর মতে, যেকোনো রাজনৈতিক দল তার নিজস্ব আদর্শের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত থাকবে, সেটিই জনগণের প্রত্যাশা।

অধ্যাপক চৌধুরীর এই স্মৃতিচারণে মূলত চার দশকেরও বেশি সময় আগে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান এবং দেশ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার একটি প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে।

১৯৮১ সালের ওই আয়োজনের বিষয়ে সমসাময়িক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও জিয়াউর রহমানের শিক্ষার্থী ও তরুণদের অনুপ্রাণিত করার কর্মকাণ্ডের উল্লেখ পাওয়া যায়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *