মুক্ত বাংলা ডেস্ক: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের বানিকান্দি নোয়াগাঁও (সদুখালি) গ্রামের প্রবীণ চিকিৎসক, সিরাজগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং ন্যায়পরায়ণ সালিশ ব্যক্তিত্ব ডাক্তার ছমির উদ্দিন-এর মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
এক যৌথ শোকবার্তায় সুনামগঞ্জ জেলা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে-এর সভাপতি মোহাম্মদ আবুল লেইস, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ ছানাওর আলী কয়েস, গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল ইউকে-এর সাবেক সভাপতি মনসব আলী জেপি, মুক্ত বাংলা ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান ও এনটিভি ইউরোপের সাংবাদিক সারওয়ার হোসেইন, ছাতক উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট-এর সভাপতি জামাল উদ্দিন মকদ্দুস, ট্রেজারার অ্যাডভোকেট আমির উদ্দিন, সিংচাপইড় ইউনিয়ন উন্নয়ন সংস্থা ইউকে-এর সভাপতি আহবাব মিয়া (সাবেক পুলিশ ইন্সপেক্টর), সেক্রেটারি তাহের উদ্দিন আজিজ, ট্রেজারার হাজী ইসলাম মিয়া, সিংচাপইড় ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে-এর উপদেষ্টা নুরুল ইসলাম এমবিই, মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, আজাদ মিয়া, সেলো মিয়া, সেক্রেটারি ছানাওর আলী, ট্রেজারার আলী আহমদ, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সেলিম উদ্দিন, ধর্ম ও সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আকিকুর রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, ডাক্তার ছমির উদ্দিন গত ২২ মে শুক্রবার রাত ৯টায় নিজ বাড়িতে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০২ বছর ৭ মাস।
তিনি ছিলেন জালালাবাদ কম্পিউটার সেন্টার, হাউজিং এস্টেট, সিলেটের সাবেক কম্পিউটার ট্রেইনার ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং ডাক্তার মিসবাহ উদ্দিনের পিতা। মৃত্যুকালে তিনি দুই পুত্র, চার কন্যা, নাতি-নাতনি এবং দেশ-বিদেশে অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
মুক্ত বাংলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, একথা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও সাংবাদিক সারওয়ার হোসেইন সুজন এক সংক্ষিপ্ত শোকবার্তায় বলেন, “ডাক্তার ছমির উদ্দিন ছিলেন দক্ষিণ ছাতকের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক, সমাজসেবক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তিনি এলাকার শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর জীবন ছিল মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এক উজ্জ্বল অধ্যায়।”
তিনি আরও বলেন, “দক্ষিণ ছাতক থানা বাস্তবায়নের স্বপ্নদ্রষ্টা ও আন্দোলনের অগ্রসৈনিকদের অন্যতম ছিলেন ডাক্তার ছমির উদ্দিন। দক্ষিণ ছাতক থানার দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন সংগ্রাম, সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণসচেতনতামূলক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর সেই অবদান দক্ষিণ ছাতকের মানুষ চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল অত্যন্ত গভীর। তিনি উত্তরণ যুব সমিতি, সিরাজগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, মরহুম মাওলানা আজমল আলী স্মৃতি প্রাথমিক বৃত্তি পরিষদ, বানিকান্দি ব্যবসায়ী সমিতি, আল মদিনা একাডেমি এবং স্থানীয় জামে মসজিদসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ন্যায়নিষ্ঠ সালিশ, সমাজ সংগঠক এবং জনদরদি অভিভাবক হিসেবে তিনি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, তাঁর মৃত্যুতে দক্ষিণ ছাতক এক স্নেহশীল, প্রজ্ঞাবান ও মানবিক অভিভাবককে হারিয়েছে। দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবন পরিক্রমায় তিনি যে সেবামূলক ও কল্যাণধর্মী কর্মযজ্ঞ রেখে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মরহুমের জানাজার নামাজ গত ৩০ মে শনিবার নিজ গ্রামের ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকার সর্বস্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
ডাক্তার ছমির উদ্দিনের বিদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে। তাঁর কর্মময় জীবন, মানবিকতা এবং সমাজকল্যাণে অবদান দক্ষিণ ছাতকের ইতিহাসে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন এবং শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
