✍ বিশেষ প্রতিবেদন | মুক্তবাংলা নিউজ ডেস্ক
শিশুদের নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার মধ্যে কানে ব্যথা একটি সাধারণ ও পরিচিত সমস্যা। অনেক সময় এই ব্যথা শিশুকে অসহ্য কষ্টে ফেলে দেয়, অভিভাবকদেরও চিন্তায় ফেলে দেয়। তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতা এ সমস্যা থেকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে।
কেন শিশুদের কানে ব্যথা হয়?
শিশুদের কানে ব্যথা হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। গবেষণা বলছে, যেসব শিশু:
- সিগারেটের ধোঁয়া বা বায়ুদূষণের শিকার হয়,
- ফিডার বা বোতলে দুধ খায়,
- ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাস করে,
- অ্যালার্জি, সর্দি-কাশিতে বারবার আক্রান্ত হয়,
- অথবা জন্মগত তালুকাটা সমস্যায় ভোগে,
তাদের কানের ইনফেকশনের ঝুঁকি বেশি থাকে। সাধারণত ৬ থেকে ১৮ মাস বয়সের মধ্যে শিশুরা কানের সংক্রমণে বেশি আক্রান্ত হয়। তিন বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ কোনো না কোনো সময় কানের ব্যথায় ভুগে থাকে।
সম্ভাব্য কারণগুলো:
▶ সর্দি-কাশির পরিণতি: ঠান্ডা লাগলে নাক-কান সংযোগকারী টিউব (ইউস্টেশিয়ান টিউব) বন্ধ হয়ে কানের ভেতরে তরল জমে ব্যথা হয়।
▶ কানের ময়লা (ওয়াক্স): অতিরিক্ত ময়লা জমে কানের পথ বন্ধ হলে ব্যথা হতে পারে।
▶ বহিঃকর্ণের সংক্রমণ: কানের বাইরে এয়ার ক্যানেলে ইনফেকশন হলে ব্যথা দেখা দেয়।
▶ ফোঁড়া বা লোমের গোড়ায় সংক্রমণ: এর ফলে তীব্র ব্যথা হতে পারে।
▶ আঘাত: কাঠি, কটনবার্ড বা অন্য কিছু দিয়ে কান খোঁচানোর ফলে আঘাত লেগে ব্যথা হতে পারে।
শিশুর কানে ব্যথা হলে যেসব লক্ষণ দেখা যায়:
- অতিরিক্ত কান্না ও অস্থিরতা।
- জ্বর ওঠা।
- কান ধরাধরি বা টানাটানি করা।
- খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া।
- রাতে ঘুম না হওয়া।
- কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়া।
- হাঁটা-চলায় ভারসাম্যহীনতা।
চিকিৎসা পদ্ধতি
▶ শিশুর ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে, নিস্তেজ হয়ে পড়লে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।
▶ জ্বর ও ব্যথা কমাতে বেদনানাশক ওষুধ দেওয়া হয়।
▶ ইনফেকশন হলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে।
▶ কানে পানি যাতে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
▶ পুঁজ বা রক্তমিশ্রিত স্রাব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কানের ড্রপ দেওয়া যেতে পারে।
▶ ওয়াক্স বেশি জমলে অলিভ অয়েল দিয়ে নরম করে চিকিৎসকের মাধ্যমে পরিষ্কার করাতে হবে।
▶ দাঁতের সমস্যাজনিত ব্যথার ক্ষেত্রে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
চিকিৎসা না করালে যে জটিলতা হতে পারে:
- সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে।
- কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে।
- মাথার হাড়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে ম্যাস্টোডাইটিস হতে পারে।
- মেনিনজাইটিস পর্যন্ত হতে পারে।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
▶ শিশুদের কান খোঁচানো থেকে বিরত রাখুন।
▶ পাতলা কাপড় দিয়ে শুধু কানের বাইরের ময়লা পরিষ্কার করুন।
▶ শিশুকে ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা দিন।
▶ ফিডারে দুধ খাওয়ালে মাথা উঁচু রাখুন। শুয়ে থাকা অবস্থায় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
▶ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
▶ শিশুর সামনে ধূমপান করবেন না।
▶ নাকের এডিনয়েড বড় হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ব্যথা উপশমের ওষুধ সম্পর্কে সতর্কতা
বাজারে আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ সহজলভ্য হলেও নির্ধারিত ডোজের বেশি দেওয়া যাবে না। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।
✍ লেখক:
ডা. মো. আব্দুল হাফিজ (শাফী)
আবাসিক সার্জন (ইএনটি), সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
