রাজাকারের তালিকা গায়েব: মন্ত্রণালয়ে নেই নথি, দায়ে সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেল

মুক্তবাংলা রিপোর্ট | ঢাকা |

রাজাকারের তালিকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। ২০১৯ সালে ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রকাশিত এই তালিকা সরিয়ে ফেলার পর মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আর পাওয়া যাচ্ছে না। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মন্ত্রণালয়ের মূল নথিপত্র থেকেও ‘রাজাকারের তালিকা’ গায়েব হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এর জন্য সরাসরি সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে দায়ী করছেন।

চাপে পড়ে সরানো হয়েছিল তালিকা

মন্ত্রণালয়ের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, ২০১৯ সালে প্রকাশিত তালিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুল লতিফ মির্জাসহ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর নাম উঠে আসে। এতে সরকারের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়। সেই চাপের মুখেই মোজাম্মেল হক তালিকাটি সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেছেন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।

তিন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন ‘রাজাকার’ গোলাম আরিফ

তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিব্রত হয়ে আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে আবেদন করেন অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু। ১৮ ডিসেম্বর, ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এখনও যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কিছু অশুভ শক্তির অস্তিত্ব রয়েছে।”

তিনি বলেন, “তালিকায় আমার নাম দেখে আমি হতবাক ও অপমানিত। আমি বিশ্বাস করি, সরকার আমার আবেদন বিবেচনা করে তালিকা থেকে নাম বাদ দেবে।”

তালিকা প্রকাশের ইতিহাস

২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে রাজাকারের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়। সংসদে প্রস্তাব পাস হয় এবং এক দশক ধরে দেশজুড়ে তথ্য সংগ্রহের পর ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক আনুষ্ঠানিকভাবে ১০,৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেন। সেই তালিকা সংবাদ সম্মেলনে উন্মোচন করা হয় এবং মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়।

তবে তালিকায় বিএনপি বা ইসলামপন্থী দলের কারো নাম না থাকায় তখন থেকেই প্রশ্ন ওঠে। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, তালিকাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

তালিকা গায়েবের পর প্রতিক্রিয়া

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। এরপর থেকে আর রাজাকারের তালিকার হদিস পাচ্ছেন না মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তালিকাটি পাইনি। ওয়েবসাইটেও নেই। থাকলে অন্তত জানতাম, কারা এতে ছিলেন।”

সচিব ইসরাত জাহান বলেন, “আমার দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন কোনো নথিপত্র পাইনি।”

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—বহুল আলোচিত তালিকাটি কী উদ্দেশ্যে গায়েব করা হলো? আর নতুন করে কি আদৌ এই তালিকা প্রকাশ সম্ভব হবে?

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *